Monday, June 1, 2026

Annie Hall

 “Annie Hall”

— Rohan Nambiar

Woody Allen’s Annie Hall simply refuses to leave your mind so easily. It is one of those films where the relationship between Alvy and Annie keeps circling in your head long after the movie ends. Alvy is a comedian by profession. He has very clear opinions about everything and speaks his mind without hesitation. Annie is cheerful, charming, and dreams of becoming a singer. Throughout the film, the dialogues are placed so beautifully that they constantly stir something inside you. It shows the difficult phases of a relationship — the ups and downs, the happiness, the loneliness — as if holding a mirror right in front of us.

Alvy wanders through the streets carrying years of loneliness within him. He has been in therapy for fifteen years. His second marriage has already ended in divorce. Then he meets Annie, and somehow he begins to rediscover himself. They meet while playing tennis. Strangely, while watching the film, I too started falling a little in love with Annie.

After the game, Annie says:
“Hi, hi.”
Alvy replies:
“Oh, hi hi.”

Then Annie seems as if she wants to say something more, but words do not come out. So she awkwardly says:
“Well… bye.”

Alvy says:
“You play well.”

Annie replies:
“Oh, yeah… so do you… Oh God, what a dumb thing to say, right? I mean, you say ‘you play well,’ and then right away I have to say, ‘you play well.’ Oh God, Annie… well, la-de-da… la-de-da…”

Alvy asks:
“You wanna lift?”

Annie replies:
“Oh, why? You got a car?”

Alvy says:
“Me? No. I was gonna take a cab.”

Annie answers:
“Oh no, I have a car.”

Then Alvy jokingly asks why she asked whether he had a car when she herself had one — the way she said it almost sounded like she wanted a lift from him. Annie quickly tries to correct herself and asks if he needs a ride instead. The way Annie speaks, the way she laughs while talking, somehow makes every dialogue feel sweet and deeply alive.

After that, the relationship begins to grow beautifully. Sometimes they are happy, sometimes Alvy becomes suspicious of her. Eventually they break up. Then one night, at three in the morning, while Alvy is in bed with another woman, Annie suddenly calls him. He rushes to her apartment only to discover that Annie had called him because she saw a spider in the bathroom. But really, killing the spider was only an excuse — she wanted to see him, wanted to tell him that she truly loved him. And so they come together once again.

Annie smokes marijuana before sex and washes her face eight hundred times a day with black soap. Alvy turns on a red light before sex. Two strange people with strange little habits — just like all of us and our endless wants and insecurities.

On their way back from an award ceremony, both of them want to say that the relationship is no longer working. But neither can say it first because both are worried about hurting the other. Finally Annie says it, and Alvy accepts it. Alvy had stopped finding happiness in togetherness. But after separation, he realizes that there is something beyond the physical, something deeper. He understands how much he truly loves Annie.

Alvy goes to Los Angeles and asks Annie to return with him to New York. Annie refuses. She says:
“New York is a dead city.”

Alvy returns to New York alone. A man obsessed with thoughts of death is, in truth, desperately trying to live. In the play he later writes, he recreates the chemistry between himself and Annie — only this time the ending is different. In his version, the hero and heroine reunite. The heroine comes back to New York.

This film does not leave you. The chemistry of relationships in it feels painfully familiar. I see parts of myself in it. In every relationship, certain basic things remain the same; certain mistakes remain the same too — only the characters change. Instead of Alvy and Annie, we begin to see ourselves sitting there.

Sometimes we could never force a relationship to survive. Sometimes we felt that maybe, if we had stayed a little longer, given it a little more time, things might have turned out differently. Yet we couldn’t. We still can’t.

Just as Alvy realizes in the end that Annie is the one he truly needs, that without her he feels empty, we too keep searching for someone. Somewhere deep inside every one of us, there is a smiling, innocent face of an Annie that quietly appears and disappears…

(This is not a film review. It is simply a feeling from the heart. I have watched many films before, and I keep watching them again. These are just the thoughts that come to me while watching.)

Monday, November 13, 2023

ঠিক প্রেম প্রস্তাব না

 ঘুমিয়ে পড়েছ ? শহরের বুকে রাত নেমে আসে , কিছু তারা স্থির । আজ এই মধ্যরাতে নীলচে আলোয় একলা রুমে মন টিকছে না । একের পর এক গজল চলছে । আমি ভেসে যাচ্ছি , ভেসে যাওয়া আমাকেই মানায় । ইদানিং ভিড়েও কেন জানি না একা হয়ে যাই । আলাদা হয়ে যাই ভীষণ । ভিড়ে ঠাসা মানুষ , জীবন্ত আড্ডা , প্রিয় বন্ধুদের মাঝেও একা হয়ে পড়ি ।

  

কেন বল তো মাঝে মাঝে তোমার মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে । তোমার দুটো চোখ নিয়ে আমি একটা গোটা উপন্যাস লিখতে চেয়েছি । তোমার চোখে আজকে আমি , কুয়াশা ভরা আকাশ বা মায়ামায়া আলোর ঠিকানাহীন রাস্তা বসিয়ে দিই ! বা কোন পাহাড়ি নদী ? না ধুর ! হচ্ছে না । পাহাড়ি নদী মানাবে না । এখান থেকে অনেক দুরের কোন সবুজ মাঠ যেখানে কেউ হাতে হাত রাখছে । বা pride and prejudice সিনেমার পোট্রেটের মত কোন প্রিয় দৃশ্য ? নাকি মাঝ আকাশের কোন তারা , যার ছায়া পড়েছে জ্বলে । আকাশের বিশালতা-ই থাক । বুঝলে ? দুই চোখের গভীরতা আকাশের মত , নেশা মাখা শাস্ত্রীয় রাগের মত , মায়া মাখা আলোর ভোরের মত । সেদিন খুব জোরে ব্রেক মেরে ছিলাম । গাড়ি চালানোর সময় প্লিস তুমি সামনে এসো না । অ্যাকসিডেন্টের চান্স প্রবল ।


তোমাকে আগেরদিন আইস ওয়াইড শাট এর অ্যালিসের মত দেখাচ্ছিল । হেঁটে আসার ভঙ্গি ভীষণ আর্টিস্টিক , কোন আর্ট ফিল্মের একটা লঙ শর্ট হতে পারত । এইসব কথা মেকি শোনাতে পারে কিন্তু সত্যিই তোমাকে দেখলে এসব মনে হয় । তাই তো কথা বলার চেয়ে তাকিয়েই থাকি বেশি । কখনো আমার চোখে আয়নার মত তাকিয়ে দেখতেই পারো ...

 

আমার নীলচে আলোর রুমে এখন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বাজছে । চোখ বন্ধ করে ভেসে যাচ্ছি । আর শুধু তোমার চোখ দুটো মনে পড়ছে । ওই দু’চোখে যদি আরেকটু তাকিয়ে থাকি খুব কি বিরক্ত হবে ? ভীষণ একা হয়ে পড়ছি । সর্বনাশের দিকে এক ধাপ করে এগোলে কি মানুষ এরকমই একা হয়ে পড়ে ? কিছু সর্বনাশ উপভোগ্য হয় , কিছু সর্বনাশে প্রশান্তি থাকে । 

@ রোহন নাম্বিয়ার ।

Wednesday, June 7, 2023

যা আমি চাই না

 

কেন বল তো ? কেন এভাবে বারবার লেখার মত তোর কাছে বা তোর মত লেখার কাছে ফিরে আসি ? আমি বহুবার লেখা ছেড়েছি । ফিরে এসেছি আবার । কখনো মেরিটেশন করতে পারি না । কখনো ভেতর থেকে শান্ত হতে পারি না । কেন যে ভেতরে ভেতরে সবসময় এই অশান্তি বুঝি না । মাথায় সবসময় কি কি ঘুরছে , একটু স্থির হতে পারছি না , চিন্তার জট ছাড়াতে পারছি না , কোথাও এতটুকু শান্তি পাচ্ছি না , একটা গুমোট ভাব মনের ভেতর । অথচ লিখতে বসলে কি শান্ত হয়ে যাই । লিখতে বসা আমি আর সারাদিন ঘুরে বেড়ানো আমি যে কতটা বিপরীতমুখী মানুষ নিজেই চিনতে পারি না । বিশ্বাস করুণ আপনিও চিনতে পারবেন না একদমই ।

আমি সত্যি লিখতে চাই না , আমি সত্যি তোর থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে চাই । কিন্তু এ ব্যাধি আমার অনেক ভেতরে বাসা বেঁধে ফেলেছে । কম্পিউটার খুলে বসি লেখা আসে না ছটফট করি , তোর বাড়ির কাছে বহুবার যাই তুইও ব্যালকনিতে আসিস না । হা হা হাসি পায় । সবই বুঝি শুধু বোঝাতে পারি না নিজেকে । যখনই একটু বোঝানোর চেষ্টা করি ভেসে ওঠে লেখা , তুইও একটা মেসেজ পাঠিয়ে চলে আসিস ব্যালকনিতে । শান্ত হয়ে যায় ভেতরে ঢেউ…

  কেন বল তো ? আমি কখনোই যাই নি , সময় মিলিয়ে দিয়েছে । আর ফেরার ক্ষমতা তো কোন দিনই ছিল না আমার , নেই । খুব ছোট বয়সে অপরিণত পরিচয় , আবার কথা বন্ধ , আবার মেলামেশা , আবার স্টপ , এই সাইকেলেয় ঘুরে চলেছে , মাঝে কিছু মুহূর্ত , যেগুলো চোখ খোলা এবং বন্ধ কোন অবস্থাতেই অগ্রাহ্য করতে পারি নি , পাই না । আমরা একসাথে থাকতে পারি না । আমি দূরে যেতেও পারি না । চশমা পেরোনো কাঁচে শহর কবিতা হয়ে ওঠে…

 আমি ভেতরের সব অস্থিরতা কাটিয়ে শান্তি চাই । লিখতে চাই না , লিখতে পারলে ওড়ার স্বাদ পাই । তোর থেকে সরে তোকে খুঁজেছি , বহু নতুন সম্পর্কে গিয়েও ফিরে এসেছি । তোকে আমি চাই না তবু কেন জানি না খুঁজেই চলেছি ।

 

কি আশ্চর্য ! তবু তোর কথাই বলে গেলাম এবং বলতে গিয়েও সেই লেখাই আমার মাধ্যম হল । লেখার কাছে ভীষণ অসহায় আমি …

 

@ রোহন নাম্বিয়ার ।

Tuesday, May 9, 2023

ঘুমহীন কোন কোন রাতে

 


 

মফস্বলে ঝিমিয়ে আছে রাত । পূর্ণযৌবনা চাঁদও গাছের ফাঁকে স্থির । আমরা সবাই ঘুমের ভেতর জেগে আছি , তুমিও । সিগারেটের লাল আলো থেকে খসে যাচ্ছে ছাই । নরম এই রাত কারো শরীরের মত । আমার ঘুম আসে না । আমি বহুদিন ঘুমোই নি । আসলে আমরা কজনই বা ঘুমের মধ্যে মিষ্টি করে হেসে উঠতে পারি বলুন তো ?


কখনো প্রত্যাখ্যান পেয়েছেন ? গুড মর্নিং মেসেজ কি সবসময় গুড হয় ? তুমি ফিরে আসতে চাও জানি । কিন্তু এই চাওয়ার মাঝেও তো কিছু থাকে । কেন থাকে ? তুমি কষ্ট গিলে থেকে গেছো , পেছন ফেরো নি , ফিরবেও না জানি । আমার কথা আর নাই বা বললাম । আমি ভুলের সেঞ্চুরি পার করেছি বহুবার । হাওয়াটা শরীর ছুঁলো । শিরশিরিয়ে উঠলাম ।


দূরে গিয়ে কতটা কাঁছের তা বুঝেছি । কিন্তু কাছে থাকতেই যে কতটা দূরত্ব তৈরী হয়ে গেছিল বোঝা হয়নি । বুঝেই আর কি করব বলুন তো ? তবু বোঝাটা দরকার ।


একটা সাদা বক একা উড়ে গেল । দূরে ট্রেনের হুইশেল । কেউ কি প্রানের শহর ছেড়ে চলে গেল পিঠে স্বপ্নের বোঝা নিয়ে !  ফুটপাতে কারো নিশ্চিন্ত ঘুম , কারো ঠাণ্ডা ঘরেও ছটফট । কারো সব পেয়েও কিছু যেন পাওয়া হল না । কারো কিছু না পাওয়াতেই শান্তি ।


আমি শুন্যতা দেখেছি , নিরবতাও । দেখেছি হাঁ করে ঠকে যাওয়াও । খড়কুটোকে আশ্রয় ভেবেছি আর আশ্রয়কে ছল । আমার ভুলের পাহাড় আমি নিজেই পেরোতে পারি নি । তুমি আর কীভাবে পেরোবে প্রিয় ?

 

আজ অন্য কথা একটুও বলি নি । শুধু আমি আমি করে গেলাম । আমি সাইকেল চেপে সন্ধের রাস্তায় ঘুরেছি । শূন্য পকেটে দিনও ঘুরেছি । ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে ঘুমোতে পারি নি । বহুবছর আগে হ্যাঁ অলমোস্ট দশ বছর তো হবেই । তুমি একটা ছাগলকে বিস্কুট খাওয়াচ্ছিলে । এত ছোট দৃশ্য কি মনে আছে তোমার ? আমার মাথায় গাঁথা হয়ে আছে । একটা মেয়ে , চোখে চশমা , শর্ট স্কার্ট , স্লিভ্লেস টপ সামনে একটা কালো ছাগল ,  মাথার ওপর বড় একটা বট গাছ । তারপর রাস্তা ধরে ছাগলটা চলে গেল আর তুমি সিঁড়ি বেয়ে দোতলার ঘরে । বিশ্বাস করুন আমার জড়িয়ে ধরে কোন সন্ধের চুমু মনে পড়েনা । আমার এইসব দৃশ্য মনে পড়ে খুব । তারপর ধরুন কোন সন্ধে ফাঁকা রাস্তায় সোডিয়াম আলোর নীচে তুমি বকবক করে গেলে আমি কিছু শুনতে পেলাম না । শুধু তাকিয়ে রইলাম । দেখলাম চঞ্চল চোখ আর নড়ছে শুধু ঠোঁট । আমার এই ক্যাবলা হয়ে যাওয়াটা তো একমাত্র তোমার কাছেই মানায় ! তাই না?


গাছের পেছনে চাঁদটা যেন পাতার আঁচল ঢেকে নিল বুকে । আজ আবার এক জায়গায় সিভি পাঠিয়েছি । ডাক কি আসবে ? কোন কোন সময় মনে হয় না-পাওয়াগুলো এমনভাবে জড়িয়ে ধরেছে , সত্যিই কি কখনো ছাড়বে ? আর হারানোর পর বুঝেছি কি কি পেয়েছিলাম । এই পাওয়া না-পাওয়ার সুতো আমাকে জড়িয়ে ধরছে । বেঁধে যাচ্ছে মগজ । তুমি কি শুনতে পাচ্ছো আমার নিঃশব্দ চিৎকার ! একাকীত্ব ! শূন্য পকেটের যন্ত্রণা ! মাঝে মাঝে দেখতে পাই একটা নৌকো ঝড়ের রাতে নোঙর ছিঁড়ে দিশেহারা মাঝ সমুদ্রে ।


হাওয়ায় নারকেল গাছের পাতা শব্দ করে কাঁপল কারো শরীরের মত । খুব একা দিনের মত বা জন্মদিনের শুভেচ্ছার মত , ভয়ে ভয়ে চিঠি আদানপ্রদানের মত , দুপুরের ক্লাসরুমে তোমাকে মনে পড়ার মত , বিকেলের নদীপাড়ের মত , তোমার হৃদস্পন্দনের মত , বসন্তের পাতা ঝরার মত , একই ছাতার নীচে বৃষ্টির মত , প্রথম হাতে হাত রাখার মত , দীপাবলির সন্ধের মত আরেকবার দুরুদুরু বুকে ভয়ে ভয়ে জড়িয়ে ধরবে ? আরেকবার কোন মায়াবী সন্ধেবেলা হাঁটবে দিগন্তরেখা ছুঁয়ে ?

 






রোহন নাম্বিয়ার 

Sunday, March 26, 2023

তুই যদি প্ৰিয় কোন গান হতি




   এখানে নদী বাঁক নিয়েছে । শান্ত জল । অন্ধকার চারিদিক। পাড়ে দাঁড়িয়ে আছি , আমরা কোন কথা বলছি না । পেছনে ঝিঁঝিঁ আর ব্যাঙের বুকচেরা চিৎকার ভেতরটা ফাঁকা করে দিচ্ছে। এভাবেই আমরা এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম ঠিক আট ঘণ্টা আগে । এখন রাত ২: ৩০ । আমি সিওর তুই ঘুমোস নি , গাঁজা টেনে শূন্যে মেঘেদের সাম্রাজ্যে আছিস । তোরও কি এই মধ্যরাতে মনে পড়ছে আমার কথা ?


     আগের রাতে ঘুমিয়েছি ওই চারটে । বহুদিন পর তোর ফোন এলো সাড়ে চারটে সময় । ব্যস স্ক্রিনে তোর নাম দেখে ঘুম গেল মর্নিং ওয়াকে । একি কাঁদছিস কেন ? আচমকা বিদ্যুতের মত উড়ে এলো আবদার । আমায় একটা দিন দিবি ? না করা আমার সাধ্যে ছিল না । তারপর ? তারপর শুনবেন ! 


   তারপর আমার পক্ষীরাজ রেডি ডানা মেলার জন্য । ন্যাশনাল হাইওয়ে ধরে সে উড়ছে । পরের শহরে পৌঁছে সে পিঠে চাপিয়ে নিল রাজকন্যাকে । হা হা তা বলে আমায় আবার কোন রুপকথার যুবক ভাববেন না । যাইহোক , আমরা ভর দুপুরে নদী পাড়ে গেলাম , রোদের তেজে ফিরেও এলাম । আরেকটু এগিয়ে একটা গ্রাম , আরেকটা গ্রাম তারপর আরো একটা পেরিয়ে ইউক্যালিপটাশ ঘেরা ঝিল । নীল জল । দুজন ঘাটে বসে মাছ ধরছে , এক মহিলা বাসন ধুচ্ছেন । তোর ঠোঁটের সিগারেটে আমি আগুন দিলাম । ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে উপরে । আমার চোখে চোখ রেখেছিস কিন্তু কিছু বলছিস না । কি দেখছিস ? আমার চোখে দিগন্তবিস্তৃত মাঠ আছে ,আছে জঙ্গল , আছে কমলা রাস্তা , আছে তোর চুলের মত ঢেউ খেলানো নদী আর কলেজ ডুব মারা দিনের বোহেমিয়ান সময় । এবার তাকালি ঝিলের দিকে । নীল জল , ভাসমান কটা হাঁস । তোর ঠোঁট স্পর্শ করা সিগারেট আমার ঠোঁট ছুঁলো । আমরা আরেকটু মনের এবং আরেকটু ধ্বংসের কাছাকাছি এলাম । কেন ডাকলি ? কেন কাঁদছিলি ? কেনই বা আমরা এখন প্রকৃতির এত কাছাকাছি ? সব কেনর উত্তর হয় না । এই পাশাপাশি বসা , এই নিরবতার থেকে যথার্থ শব্দ সত্যিই আমাদের কাছে নেই বিশ্বাস করুণ । শুধু তার হাতে হাত রাখাটাই মুহূর্ত । আর সেই কলেজবেলার মত করে সে গেয়ে উঠল –    

Suzanne takes you down to her place near the river

You can hear the boats go by 

You can spend the night beside her


   আমি জলের দিকে তাকিয়ে আছি । ফ্ল্যাশ ব্যাকে ভেসে উঠছে একটা রোদ মাখা রাস্তা , পাশে ঘুপচি চায়ের দোকান । বাস থামল । নামলি , অন্যান্য দিনের মত সেদিনও দেখিস নি । প্রতিদিনের মতই জিন্স – কুর্তি , কাঁধে সাইড ব্যাগ । হেঁটে যাচ্ছিস কলেজের গেটের দিকে । 

 And you know that she’s half crazy 

 But that’s why you want to be there…


      গানটা থেমে গেল । হাত থেকে হাত সরিয়ে বলল - চল জঙ্গলে যাই । আমরা আবার চললাম । কলেজ ছাড়ার আজ এত বছর পর আমরা আবার কেন দেখা করছি ! জানি না । দুদিকে অসংখ্য সবুজ রেখে এগোচ্ছি । আজ আমার জঙ্গল ভালো লাগছে না । সব সবুজেরই যেন এক রঙ , পাখির ডাক কান পেরিয়ে মনে গিয়ে লাগছে না । তার নরম পারফিউমকে অগ্রাহ্য করে জঙ্গলের বুনো গন্ধ নিতে পারছি না । আমাদের দুজনের ঠোঁটে সিগারেট জ্বলছে , মাটির রাস্তা ধরে চলেছি , জঙ্গল ঘন হচ্ছে । সে কানের কাছে খুব আসতে গান ধরেছে , তার স্বর কান হয়ে মনের গভীরে প্রবেশ করছে সিগারেটের ধোঁয়ার মত আর মুগ্ধতায় আমার চোখ বুজে আসছে – 


                   

    and you want to travel with her 

    And you want to travel blind 

    And you know that she will trust you 

        For you’ve touched her perfect body with your mind


     এই !!!!!!!! বলে সে আমার কোমরে চাপ দিতেই কোন রকমে কন্ট্রোল করেছি । আরেকটু হলে একটা গাছে ধাক্কা মারতাম । আমার পক্ষীরাজ থেকে নেমে ঠোঁট থেকে মাটিতে পড়ে যাওয়া সিগারেটটা তুলতে যাব সে বলল , তুলছিস কেন ? ফেল । আরেকটা দিচ্ছি ধরা বলেই নিজেরটাও ছুঁড়ে দিল । আমরা হেসে উঠলাম দুজনই । সে গাড়ি স্টার্ট দিল আমি পেছনে বসলাম । কি রে মনে মনে কার শরীর ছুঁয়ে ফেললি ? বলেই আবার হেসে ফেলল । আমরা শহরের দিকে যাচ্ছি । এখন পিচ রাস্তা , দুদিকে শাল গাছ । হাওয়ায় তার এলোমেলো চুল আমার মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে , আর পারফিউম ছুঁচ্ছে চেনা স্মৃতি । এবার আমি তার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে গাইছি – and jane came by with a lock of your hear… 

 


   ভীষণ বোর হচ্ছেন বলুন ? আচ্ছা মাঝের কিছুর সিন কেটে বাদ দিলাম । সামনে ইউনিভার্সিটি । ও বলল – দেখ এক ঝাঁক সুন্দরী আসছে , আমি ওদের সামনে গিয়ে ব্রেক মারি কি বলিস ? আমি বললাম - তারপর ? তারপর আবার কি তুই সেই jannat এর মত দু হাত হাওয়ায় ভাসিয়ে দিবি আর আমি গেয়ে উঠবো ও ও ও ওও ও ওও ও… । হ্যাঁ তারপর একটা জুতো উড়ে আসুক তাই তো ! আমাদের দুজনেরই মুখে সিগারেট আর এভাবে হাসছি দেখে সেই এক ঝাঁক মেয়ে আমাদের দিকে হা করে টিপিকাল ভাবে তাকিয়ে আছে । আমরা হাসতে হাসতে আরো কিছুটা এসেছি । সূর্যের আলো নিভে আসছে । এবার আমি বললাম - চল নদী পাড়ে যাই ।  


    চারিদিক অন্ধকার । নদী এখানে বাঁক নিয়েছে । শান্ত জল । আমরা উঁচু পাড়ে দুজন দুজনের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছি । নদীর দিকে মুখ । আরেক হাতে দুজনেরই বিয়ারের বোতল । আমরা কোন কথা বলি নি । আন্ধকারে নিরবতা চিরে শুধু আসছে ঝিঁঝিঁ আর ব্যাঙের ডাক আর বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা করে দিচ্ছে । একটু আগে নদীর ওই পাড়ে দেখা যাচ্ছিল পুরনো মন্দিরের জীর্ণ চূড়া । সেই কবে থেকে যে দাঁড়িয়ে আছে ঠিক আমাদের মত । এই যেমন আমরা এত কাছাকাছি আসি , হৃদস্পন্দন শুনি অথচ কেউ কাউকে কিছু বলতে পারি না । অবশ্য শত দূরত্ব থাকলেও বুঝে ফেলি একে অপরকে । এক ঘণ্টা আমরা এখানে ছিলাম কিন্তু একটাও কথা বলি নি । তাকে বাড়ি ছেড়ে আমি হাইওয়েতে । এখন রাত ২ : ৩০ । আমার হৃদয়ে তার হাসিমুখ । অন্ধকার ঘরে নীল আলোয় ব্লুজ বাজছে । আমি গুন গুন করছি – 


“আকাশে তোমার গন্ধ ভাসে 

আমি অন্ধ হতে চাই

 আমার শরীর তোমার স্পর্শ খোঁজে 

তোমায়, কেবল তোমায় খুঁজে যায় ।“


  আমি জানি তুই এখন গাঁজা টেনে শূন্যে । খাটে আধশোয়া অথবা ব্যালকনিতে আরামকেদারায় । অনন্যা , আমি যেমন তোকে , তুইও কি এ মধ্যরাতে আমাকেই মনে করছিস প্রিয় ?  


@ রোহন নাম্বিয়ার ।

Tuesday, March 21, 2023

নিঃসঙ্গতার দিনলিপি

ছবি - জয়শ্রী বেরা 


 সামনে যতদূর চোখ যাচ্ছে শুধু মাঠ । আমার প্রায় পাঁচশো মিটার পেছনে একটা বিশাল উঁচু মিউনিসিপ্যালিটির তীব্র আলো । সেই আলো ক্রমশ ফিকে হতে হতে অনেক দূরে মিলিয়েছে ,সেই  আবছা আলোয় আকাশ থেকে মাঠ স্পর্শ করেছে ধোঁয়াশার চাদর । আমার লেখাগুলো কেমন শুধু মাঠ, জঙ্গল , রাস্তা , মেয়ে এসবেই আটকে যায় বলুন ! 


   অথবা একা একা নিরিবিলিতে ঘুরছি তাই না ?  যদি আজ নিসঙ্গতার কথা বলি ? পড়বেন ? দেখুন আমি মিথ্যে ভাউতাবাজি করব না । বলব না যে , কেউ পড়ল কি না পড়ল তাতে আমার বয়েই গেল । বলব না আমার লিখেই সুখ , লেখার জন্যই লিখি । বরং আপনারা পড়লে ভালো লাগে । আসলে তাই যদি না হত তাহলে সত্যি বলছি ফেসবুকের বদলে গোপনে ডায়রি লিখতাম । 


   দেখেছেন , আবার অযথা বকবক করছি । এই যে নিরিবিলিতে ঘুরি , একা গা ঢাকা দিয়ে ফেলি মাঝে মধ্যে । আসলে তো আমরা সকলেই ভীষণ নিঃসঙ্গ তাই না ? ভাবুন আড্ডায় আছি , হটাৎ কোন কথা কানে যাচ্ছে না , চলে গেছি অন্য কোথাও । ভাবুন সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রোলের মতই কি  নিঃসঙ্গ নই আমরা ? এই যে মাঝরাতে তোমার ইনবক্সে বা তুমি কারো ইনবক্সে ভিড় বাড়াচ্ছ ! এত ভিড়েও দেখো আদপে তুমি কাউকেই চেনো না । নিজেকেও চেনা হতে দাও নি কারোর কাছে । এই ভীষণ ভিড় ঠেলে কখনো মনে হয় নি পালিয়ে যাই ! পালাবে ? চলো একসাথে হারিয়ে যাই । যদিও একসাথে বলে তো কিছু হয় না প্রিয়। সেই তো তুমি এবং আমি কেউই কারো চিন্তা ছুঁতে পারব না । 


    আমার সামনে রুপোলী ধোঁয়াশার চাদর । কেউ নেই , কোন পোকা বা ব্যাঙের ডাক নেই , গাছের পাতার শব্দ নেই । শীত নেই , গরমও নেই । এমনকি আজ ফোনটাও আনি নি। হয়ত ঘরে রিংটোন বেজে বেজে ক্লান্ত ফোনের ওপারে তুমি আমায় খুঁজছ । শুধু নিজের হৃদস্পন্দন আছে । আমাদের প্রজন্মের বছরের পর বছর ধরে ডিগ্রি আছে , আছে ফর্ম ফিলাপ আর পরীক্ষা , কারো কারো পার্টির ঝাণ্ডা ও জয়েনিং লেটার আছে । কারো কিছু হতে চাওয়া ছিল , কারো কিছু হতে না পারা আছে । আমাদের বুকে কখনো শেষ না হওয়া একটা রাত আছে , যে রাতে মুখ না দেখিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে বেড়ানো আছে । আপনাদেরও তো কত কথা বুকে গোপন করে রাখা আছে । তাই না ? 


  আমরা ডানা চেয়েছিলাম কিন্তু মধ্যবিত্তের শেকড় পেয়েছি । আমরা প্রেম চেয়েছিলাম , বেলা বোসের ট্র্যাজেডি পেয়েছি । আমরা মধ্যবিত্তের যে শেকড় পেয়েছি , তা আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলাম কিন্তু না , আমরা গুজরাট আর ব্যাঙ্গালোরে পৌঁছেছি । যাইহোক চাওয়া আর না পাওয়াগুলোকে ছাল ছাড়ানো ছাগলের মত আমার ফেসবুক ওয়ালে টাঙ্গিয়ে দিই , কেমন ? 


  আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি মনে আছে নিশ্চয় ! আমি কিন্তু ভুলে গেছি । সামনে তাকাতেই দেখি ধু ধু মাঠ , আকাশ থেকে মাঠ ছুঁয়েছে ধোঁয়াশার চাদর । এতকথা বলতে বলতে দূরে মাঠের মাঝখান দিয়ে যে রেললাইন গেছে , সেখানে একটা মাল গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়েছে । আমি দাঁড়িয়ে আছি , কতক্ষণ থাকব জানি না । সামনে আবছা আলো জীবনের মত । 


আসলে ভেবে দেখুন কোন ভীষণ নির্জনে দাঁড়িয়ে পড়া  মাল গাড়ির গার্ডের মতই কি নিঃসঙ্গ নই আমরা ? 


@ রোহন নাম্বিয়ার ।

Thursday, March 9, 2023

উড়ে যায় পাতা বসন্ত বিকেলে

 

ভীষণ শীত করছে । আমার ভেতরটা কোল্ড-স্টোরেজের মত ঠাণ্ডা । অথচ দেখো এটা বসন্তের বিকেল । স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে পড়ে আছে কিছু বিক্ষিপ্ত পাতা । কিছু শুকনো ঝরা পাতা এখনো মাটি স্পর্শ করেনি , উড়ছে । তুমি ট্রেনের লেডিস কম্পার্টমেন্টের দরজায় , আমি দরজার হাতল ধরে প্ল্যাটফর্মে । আমি চাই তুমি পরের ট্রেনে যাও আর তুমি কিছুতেই এই ট্রেনটা মিস করতে নারাজ    হুইশেল । এক পা পিছিয়ে গেলাম । আমার খুব সামনে দিয়ে চলে গেল ট্রেন। চলে গেলে তুমি । আমার পা কাঁপছে , শীত করছে খুব । হয়ত আমাদের আর দেখা হবে না । একটা অলিখিত পূর্ণচ্ছেদ পড়ে গেল । এটা শাহরুখের কোন হিন্দি সিনেমা না । বুঝলে বন্ধু !

   অনেকক্ষণ স্টেশনেই ছিলাম । কতক্ষণই বা আর থাকব ! অগত্যা একটা সময় বেরোলাম । একটু নিরবতা দরকার । বাইক ছুটিয়ে চলে এসেছি কাছেই একটি গ্রামে । আচমকা নিজের নাম শুনে পেছন ফিরেছি । দেখি এক বন্ধু আর এক বান্ধবী । পিচের রাস্তা , দুইদিকে সারিবদ্ধ শাল গাছ । গাছের পাতাদের পেছনে আধখানা চাঁদ । মনে পড়ে গেল আমি একসময় এরকমই চাঁদ দেখে আচমকা তোমাকে মেসেজ করতাম – চাঁদটাকে তুমি দুই ভ্রুর মাঝে যত্নে বসিয়ে নিও । একবার জানলা দিয়ে আকাশের দিকে তাকাও । দেখো মনে পড়ছে ? চেষ্টা করবে চাঁদকে আজ দুই ভ্রুর মাঝে বসানোর ?

   আমার বন্ধুর ফোনে “আমি চিনি গো চিনি তোমাকে , ওগো বিদেশিনী” বাজচ্ছে । আমরা তিনজন গ্লাস হাতে দাঁড়িয়ে আছি । খুব কম আলোয় আমরা কেউ কারো মুখ দেখতে পাচ্ছি না । চুমুকে চুমুকে সময় কাটছে । আমার ভেতরে এখনো শীত । পরিবেশে বসন্ত । আমরা হাঁটছি । কিছুদুর আসার পর বনদেবীর মন্দির । মন্দির বলতে বিশাল গাছতলায় কিছু প্রতিমা রাখা , পুজো হয় । রাতে কোন আলো জ্বলে না । এখানেই বসে রইলাম অনেকক্ষণ । কেউ কোন কথা বলছি না । ওরা টের পাচ্ছিল আমার শীতভাব , টের পাচ্ছিল আমি শীতঘুমের জন্য গর্ত খুঁজছি ।

   আবার আমরা হাঁটা শুরু করেছি । ওরা কোন সান্ত্বনা দেয় নি , কোন মন ভোলানো কথা বলে নি । শুধু মনের স্পর্শ মনে রেখেছে । মাতিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে । ওরা হটাৎ নাচা শুরু করেছে , আমিও যোগ দিয়েছি । গান চেঞ্জ হল – I would never fall in love again / until I found her… বান্ধবী হাত বাড়িয়েছে । আমি এগিয়ে এসেছি । ওর একটা হাতে আমার হাত , আরেকটা হাত আমার কাঁধে । আমার একটা হাতে ওর হাত আর আমার আরেকটা হাত ওর কোমরে । দুদিকে গাছ , মাঝে রাস্তা , মাঝ রাস্তায় আমরা নাচ করছি । অথচ দেখো মনে মনে তোমাকেই ছুঁয়ে ফেলছি  । মাথার ওপর চাঁদ । তুমি কি চাঁদ দেখছ ? দেখে কি কিছু ভাবছ ?

  আমার ভীষণ শীত করছে । বাইরে বসন্ত , ভেতরে বরফ । কিছুতেই ভেতরের এই কাঁপুনি কমছে না , কমাতে পারছি না…

 

@ রোহন নাম্বিয়ার ।

Annie Hall

 “Annie Hall” — Rohan Nambiar Woody Allen’s Annie Hall simply refuses to leave your mind so easily. It is one of those films where the rela...